সেনা বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা
দি নিউজ লায়ন ; প্রতারকের পালায় পড়ে প্রতারিত হতে হলো এক ব্যাক্তিকে। জানা যায়, পূর্ব বর্ধমানের রায়নার পশ্চিমপাড়ার আলমগীর শেখ সেনা বাহিনীতে চাকরি পাওয়ার আশায় মায়ের সোনার গয়না বিক্রি ও ধারদেনা করে এক পরিচিতকে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। বছর দু’য়েক পর তিনি জানতে পারেন, সেনা বাহিনীতে এভাবে নিয়োগ হয়না। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি টাকা ফেরত চান। তাঁর চাকরি হয়নি। টাকাও ফেরত পায়নি তিনি। টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি জানাতে তিনি রায়না থানায় যান।
তাঁর অভিযোগ, পুলিশকে জানিয়ে কোনো লাভ হয় নি। তাই শেষমেশ বাধ্য হয়ে বুধবার বর্ধমান আদালতে মামলা করেছি। এমনই দাবী, আলমগীর শেখের। আদালতে আলমগীর জানিয়েছেন, বেশিদূর পড়াশুনা না করায় চাকরির আশা ছেড়ে তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। সামান্য আয়ে সংসার চালাতে সমস্যা হত। তাঁর সঙ্গে কালনা থানার শাঁখাটি গ্রামের এক ব্যক্তির পরিচয় ছিল।
সমস্যার কথা শুনে তার দাদার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় সে। তার দাদা সেনাবাহিনীর বড় অফিসার বলে জানায় সে। তার মতো অল্প শিক্ষিতের সেনা বাহিনীতে কিভাবে চাকরি হবে তা নিয়ে তার কাছে জানতে চান তিনি। সেনা বাহিনীতে ঝাড়ুদার সহ নানা পদ রয়েছে। সেইসব পদে চাকরি পাওয়া সম্ভব বলে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়। চাকরি পেতে তাঁকে ৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানায় সে। তার মধ্যে ৩ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি মায়ের সোনার গয়না বিক্রি এবং ধারদেনা করে ৩ লক্ষ টাকা দেন তাকে।
তার কাছ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজ ও ফের্ম সই করিয়ে নেওয়া হয়। তারপর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও তাঁর চাকরি হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি তাগাদা দেন। এরপর থেকেই তাঁর বাড়িতে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতারক। প্রথমদিকে ভালো ব্যবহার করলেও পরে টাকা চাইলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হত। এমনকি বিরক্ত করলে তাঁকে খুন করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
আলমগীর বলেন, চাকরি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলাম। তাই, মায়ের গয়না বিক্রি করে দিই। কিন্তু, এভাবে যে ঠকতে হবে তা বুঝতে পারিনি। মালমাটিতে কেস রুজু করে তদন্তের জন্য রায়না থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বর্ধমান আদালতের বিচারক। রায়না থানার এক অফিসার বলেন, এ ধরণের অভিযোগ জানাতে কেউ থানায় এসেছিলেন বলে জানা নেই। আদালত এ ধরণের নির্দেশ দিলে তা খতিয়ে দেখে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment